সব কিছু মিলিয়ে আমি অনেক সুখী: জীবন

0
286

রবিউল ইসলাম জীবন। এই সময়ের জনপ্রিয় গীতিকারদের মধ্যে একজন। সমান তালে গান লিখে যাচ্ছেন বিভিন্ন শিল্পীর জন্য। গান লেখার পাশাপাশি বর্তমানে সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করছেন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায়। শত ব্যস্ততার মাঝেও বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং ফুটবল দলকে উৎসাহ দিতে সব খেলার মাঠে ছুটে যান জীবন। দেশের অনেক নন্দিত ক্রিকেটার ও ফুটবলারের সাথে দারুণ সখ্যও রয়েছে তাঁর। ২০১০ ও ২০১১ সালে পরপর দুবার সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের পুরস্কার পান তিনি। এবার ২০১৬ সালে পেলেন সিম্ফনি-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া আরো কয়েকটি পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। এবারের প্রিয় কথায় এমনই একজন গীতিকারকে তুলে ধরা হলো।

প্রিয়.কম: আপনার শুরুর সময়ে কোন স্ট্রাগলের ঘটনা যদি পাঠকের উদ্দেশ্যে বলতেন? …

জীবন: আমার জন্ম একটি সাধারন পরিবারে। চার বছর বয়সেই বাবাকে হারাই। ঢাকায় আসার পর শুরুতে ফার্মগেট-এ থাকতাম। টিউশনি করে চলতাম। চার-পাঁচ টাকা পকেটে নিয়েই বেইলি রোড চলে যেতাম। ডিজিটোন এবং অডিও আর্ট স্টুডিওর আশপাশে ঘুরে বেড়াতাম। সুযোগ বুঝে জনপ্রিয় শিল্পী-সুরকাদের নিজের লেখা দেখাতাম। কখনো বা তাঁদের দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতাম। এরকম অনেক সময় গেছে আমার। এভাবেই এক সময় পরিচয় সুরকার রাজেশ ঘোষ ও পল্লব সান্যালের সঙ্গে। তাঁদের হাত ধরেই আমার স্বপ্ন পূরণ হয়। ২০০৭ সালের প্রথম দিন প্রকাশিত আসিফের ‘হৃদয়ে রক্তক্ষরণ’ অ্যালবামে আমার লেখা দুটি গান প্রকাশ পায়। গান দুটির শিরোনাম ‘ভাড়াটিয়া চাই’ এবং ‘ভালোবাসি বলে’।

প্রিয়.কম: বর্তমান সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে গীতিকারদের অবস্থান কেমন? …

জীবন: এই মুহূর্তে গীতিকারদের অবস্থান অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো। এখন একটি গানের কথা লিখলে তার জন্য গীতিকাররা কম-বেশি সম্মানী পান। যদিও বেঁচে থাকার জন্য তা অনেক নগন্য। তবে এখনও রয়েলিটি পাননা গীতিকাররা। যা কখনো কণ্ঠশিল্পী, কখনো সংগীত পরিচালক কখনো বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ভোগ করে থাকেন। গীতিকারদের সেভাবে সম্মানও করা হয় না। যদিও ইদানিংকালে মিউজিক ভিডিও, ফেসবুক প্রভৃতির কল্যাণে সাধারণ মানুষের কাছে গীতিকারদের নাম ছড়াচ্ছে।

প্রিয়.কম: আপনি তো খেলাধুলারও মানুষ, সব সময় মাঠে গিয়ে খেলা দেখেন। ….

জীবন: হ্যা, ছোটবলো থেকেই আমি ক্রিকেটের ফ্যান। স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার, নইলে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার। সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও ক্রিকেট নিয়ে অনেকগুলো গান লেখার সুযোগ হয়েছে। দশ-বারো বছর ধরে মাঠে গিয়ে বাংলাদেশের খেলা দেখি। নিজের লেখা গান যখন মাঠে বাজতে শুনি তখন খুব ভালো লাগে।

প্রিয়.কম: খেলাধূলা ও গান দুটোই আপনার পছন্দের বিষয়, দুটোকে কিভাবে দেখেন?…

জীবন: জীবনকে আমি খেলার মতো করেই দেখি। খেলায় যেমন জয়-পরাজয় আছে, তেমনি মানুষের জীবনেও। এটা মানতে হয়, মেনে নিতে হয়। একবার হারলে পরেরবার জেতার জন্য আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে হয়। খেলার মত করেই জীবনকে জয় করতে হয়। আমি খুব ক্রিড়াপ্রেমী। এ কারণেও মানুষ আমাকে অনেক পছন্দ করেন। জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার ও ফুটবলারের সঙ্গেই আমার সুসম্পর্ক।

প্রিয়.কম: ক্রিকেট খেলার কোন অংশে আপনি ভালো খেলতেন? …

জীবন: আমি ছিলাম উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। আবার স্লো মিডিয়াম পেসার হিসেবে বোলিংয়ে ওপেন করতাম। ক্লাস সেভেন থেকে কলেজ জীবন শেষ করা পর্যন্ত নিয়মিতই খেলেছি। ব্যস্ততার কারণে এখন খেলার সুযোগ নেই। তবে গ্রামে গেলে ঠিকই মাঠে নেমে যাই। ক্রিকেট লেখার দিনগুলোর খুব মিস করি। 

– See more at: http://www.priyo.com/2016/Jun/05/219848#sthash.lDMZeWSU.dpuf

LEAVE A REPLY